সৃষ্টিসমূহের ক্ষুদ্রতম কোনো বিষয়ও আল্লাহ তা’য়ালার কাছে গোপন নেই ,তিনি সমস্ত কিছু জানেন। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন -() বস্তুত কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন নেই,আকাশেও নয় বরং যমীনেও নয়। তিনি মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করে থাকেন । (সূরা ইমরান ৫)
মহাকাশের প্রত্যেকটি স্তরে প্রত্যেক মহুর্তে যে পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে ,এই পরিবর্তনের ধারা সম্পর্কে তিনি সজাগ রয়েছেন এবং যা কিছুই ঘটছে ,তা তাঁরই নির্দেশে ঘটছে । সৌর ঝড় ,সূর্যের বুকে মহা প্রলয় ,প্রত্যেকটি ছায়াপথের চলমান গতি ,একটি সাথে আরেকটির সংঘর্ষ ঘটে যেন কোনো বিশৃংখলা না ঘটে এসবকিছু তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন। গ্রহ ,উপগ্রহ ,নক্ষত্র ,তারকাপুঞ্জ ও সূর্যেও ক্ষতিকর রশ্মি যেন পৃথিবীবাসীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, এসব কিছুই একমাত্র তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন।
যমীনের তলদেশ মৃত্তিকা গর্ভেও অভ্যন্তরে উত্তপ্ত সময়ের প্রত্যেক মুহুর্তে আলোড়িত হচ্ছে সেই লাভ হঠাৎ উদগিরণ হয়ে পৃথিবীর সমস্ত জীবের জন্য যেন ক্ষতির কারণ হয়ে না দাড়ায়ে ব্যাপারে তিনি সজাগ রয়েছেন। আগ্নেয়গিরি থেকে ক্ষতির গ্যাস নির্গত হয়ে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী মুহুর্তে যেন মৃত্যু মুখে পতিত না হয় এ বিষয়টি ও তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন। সমস্ত সাগর মহাসাগরের পানি একই মুহুর্তে জলোচ্ছাসের সৃষ্টি করে পৃথিবীর যমীনকে তলিয়ে দিতে না পারে এসব যাবতীয় বিষয় তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন।
মায়ের গর্ভে -যেখানে কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই ,সেখানে কার কি আকৃতি হবে ,কার হাতের আঙ্গুল দশটির স্থানে বারটি হবে, কার এক পা ছোট আরেক পা বড় হবে ,কে কুৎসিত দর্শন হবে আর কে সুশ্রী হবে, কে মুক- বধির হবে আর কে বাক ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন হবে এসব কিছুই তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। অর্থাৎ সর্বত্র তাঁর ক্ষমতা ও জ্ঞান ক্রিয়াশীল রয়েছে জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাকে এভাবে তাঁর কাছে দোয়া করতে শিখিয়েছেন -() হে আমাদের প্রতিপালক ! নিশ্চয়ই তুমি জান যা আমরা গোপন করি ও প্রকাশ করি । আকাশ ও যমীনে কোনো কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন নয়। (সূরা ইবরাহীম-৩৮ )
শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১০
তাঁর জ্ঞান সৃষ্টি জগতকে বেষ্টন করে রয়েছে
তিনি সদা সর্বত্র বিরাজমান এ কথার অর্থ হলো- আল্লাহ তা’য়ালার ইলম গোটা সৃষ্টি জগতকে বেষ্টন করে রেখেছে। তাঁর ইলমের ভেতরে রয়েছে সব। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- () নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা সর্ব বিষয়েয় সর্বশক্তিমান । আর আল্লাহ তা’য়ালা নিজে জ্ঞান দ্বারা সমস্ত কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন । (সূরা তালাক -১২ )
অর্থাৎ মহাবিশ্বে ও মহাবিশ্বের বাইরে যা কিছু রয়েছে এর মধ্যে অণুপরমাণু বা তার থেকেও অতিক্ষুদ্র কোনো বিষয় মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। সমস্তকিছুই তাঁর জ্ঞানের জগতে বিরাজমান ,ক্ষুদ্রতম কোন বিষয় ও তাঁর জানার বাইরে নেই। অনুরূপভাবে তাঁর রহমতও সমস্ত সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে । মহান আল্লাহ বলেন- () আমার রহমত সকল জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে । (সূরা আরাফ- ১৫৬) নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -() যখন মহান আল্লাহতা’য়ালা যাবতীয় সৃষ্টি করলেন ,তখন তাঁর আরশের ওপরে একটি কিতাবে লিখেছেন ,নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গযবের ওপর বিজয়ী হয়েছে। (বোখারী ,মুসলিম ,তিরমিযী)
অর্থাৎ মহাবিশ্বে ও মহাবিশ্বের বাইরে যা কিছু রয়েছে এর মধ্যে অণুপরমাণু বা তার থেকেও অতিক্ষুদ্র কোনো বিষয় মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। সমস্তকিছুই তাঁর জ্ঞানের জগতে বিরাজমান ,ক্ষুদ্রতম কোন বিষয় ও তাঁর জানার বাইরে নেই। অনুরূপভাবে তাঁর রহমতও সমস্ত সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে । মহান আল্লাহ বলেন- () আমার রহমত সকল জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে রয়েছে । (সূরা আরাফ- ১৫৬) নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -() যখন মহান আল্লাহতা’য়ালা যাবতীয় সৃষ্টি করলেন ,তখন তাঁর আরশের ওপরে একটি কিতাবে লিখেছেন ,নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গযবের ওপর বিজয়ী হয়েছে। (বোখারী ,মুসলিম ,তিরমিযী)
শাসন কর্তৃত্বের আসনে তিনি সমাসীন
প্রকৃত বিষয় এটা নয় এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা সর্বত্র বিরাজমান নন। মূল কথা হলো আল্লাহ সব জায়গায় আছেনএবং তিনি সবত্র রিরাজমান এই কথার অর্থ হলো আল্লাহর ইলমে,আল্লাহ জ্ঞানের মধ্যে আল্লাহর নজরের সামনে গোটা সৃষ্টি জগত রয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোথায় রয়েছেন এই প্রশ্ন মানুষের মনে জাগবে ।মানুষ এই প্রশ্নের সঠিক জবাব কারো কাছ থেকে পাবে না। এ কারণে স্বয়ং আল্লাহ তা”য়ালাই এই প্রশ্নের জবাবএভাবে দিয়েছেন। () তিনি পরম দয়াবান ।বিশ্ব জাহানের শাসন কর্তৃত্বের আসনে তিনি সমাসীন। যা কিছু পৃথিবীতে ও আকাশে রয়েছে, যা কিছু পৃথিবী ও আকাশের মাঝখানে রয়েছে এবং যা কিছূ ভুগর্ভে রয়েছে সবকিছুর মালিক তিনিই ।তুমি যদি নিজের কথা উচ্চকন্ঠে বলো ,তবে তিনি তো চুপিসারে বলা কথা বরং তার চাইতেও গোপনে বলা কথাও জানেন। (সূরা ত্বা- হা -৫-৭)
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন ,এই পৃথিবীতে তোমাদের স্থিতি অবস্থিতি ও তোমাদের শান্তি- নিরাপত্তা প্রত্যেক মুহুর্তেই আমার অনুগ্রহের ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল । তোমরা এখানে আনন্দ ফু’র্তি করছো ,অহঙ্কার প্রদর্শন করছো ,আমার বিধানে বিরুদ্ধে কথা বলছো, লিখছো ,মিছিল মিটিং করছো ,আমার আদেশের বিপরীত পথে জীবন পরিচালিত করছো। এসবকিছু তোমরা করছো তোমাদের নিজেদের ক্ষমতাবলে নয়। তোমাদের জীবনের এখানে অতিবাহিত প্রত্যেকটি মুহুর্ত মহান আল্লাহ তা’য়ালার সংরক্ষণ বা হেফাযতের পরিণতি মাত্র । তাঁর ইঙ্গিত যে কোনো মুহুর্তে প্রলঙ্করী ভূকম্পনের মাধ্যমএই যমীন তোমাদের জন্য আনন্দফু’র্তির স্থান না হয়ে কবরস্থানে পরিণত হতে পারে। তোমরা যেসব বিলাস সামগ্রী নির্মাণ করেছো,সুউচ্চ প্রাসাদ নিমার্ণ করেছো, তা মুহুর্তে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে মিশে যেতে পারে । () তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গিয়েছো সেই মাহন সত্তা সম্পর্কে যিনি আকাশে রয়েছেন ,এ ব্যাপারে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটির মধ্যে বিধ্বস্ত করে দিবেন এবং এই ভূ তল সহসা হ্যাচকা টান টল-টলায়মান হয়ে কাঁপতে শুরু করবে ?(সূরা মূলক১৬)
তোমরা কি এই ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গিয়েছো যে,তিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদের ওপর প্রস্তর বর্ষণকারী প্রবলবায়ূ প্রবাহিত করবেন ?(সূরা মূলক ১৭ ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন () তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানের ওপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন ।(আবু দাউদ, তিরমিজী )
এই হাদীসেও আল্লাহতা’য়ালার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, তিনি আসমানের ও আরশেআযীমে অবস্থান করছেন। আল্লাহ তা’য়ালা আরশে আযীমে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন -তোমাদের মধ্যে দিন ও রাতে পালাক্রমে আল্লাহর ফেরেশতারা যাওয়া আসা করে থাকেন। এই পালা পরিবর্তন হয় আসর ও ফজরের নামাযের সময়। এরপর যেসব ফেরেশতারা তোমাদের সাথে রাতে থাকেন,তারা আকাশে উঠে যান। তখন মহান আল্লা তা’য়ালা তোদেরকে প্রশ্ন করেন ,তোমরা আমার বন্দাকে কোন অবস্থায় ছেড়ে এসেছো? অথচ তিনি বান্দার অবস্থা সম্যক অবগত রয়েছেন । প্রশ্নের জবাবে ফেরেশতাগণ বলেন ,তাদেরকে নামায আদায়রত অবস্থায় রেখে এসেছি এবং তারা যখন নামায আদায় করছিলো, তখন তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছে ছিলাম। (বোখারী ও মুসলিম )
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের সাথে আল্লাহ তা’য়ালা ফেরেশতা নিয়োজিত রেখেছেন । এই ফেরেশতারা ফজর ও আসরের সময় পালাপরিবর্তন করেন । এ জন্য এই সময় অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। রাতে যে ফেরেশতারা বান্দার সাথে থাকেন তাঁরা ফজরের নামাযের সময় চলেন যান এবং আরেক ফেরেশতা বান্দার কাছে আসেন। বান্দা যদি নামাযে থাকে তাহলে যে ফেরেশতা চলে গেলেন তিনি আল্লাহ তায়ালাকে জানান বান্দাকে নামায আদায়রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। আর যিনি এলেন তিনিও আল্লাহ তায়াকে জানান ,বান্দাকে নামায আদায়রত অবস্থায় পেয়েছি । এভাবে আসরের সময়ও ফেরেশতাদের পালা পরিবর্তন হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -() তোমরা কি আমাকে বিশ্বস্ত বলে স্বীকৃতি দাও না ? আমি তো ঐ সত্তার কাছে বিশ্বস্ত যিনি আকাশের ওপর রয়েছেন। সকাল ও সন্ধ্যায় আমার কাছে আকাশের সংবাদ এসে থাকে । (বোখারী ও মুসলিম)
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন ,এই পৃথিবীতে তোমাদের স্থিতি অবস্থিতি ও তোমাদের শান্তি- নিরাপত্তা প্রত্যেক মুহুর্তেই আমার অনুগ্রহের ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল । তোমরা এখানে আনন্দ ফু’র্তি করছো ,অহঙ্কার প্রদর্শন করছো ,আমার বিধানে বিরুদ্ধে কথা বলছো, লিখছো ,মিছিল মিটিং করছো ,আমার আদেশের বিপরীত পথে জীবন পরিচালিত করছো। এসবকিছু তোমরা করছো তোমাদের নিজেদের ক্ষমতাবলে নয়। তোমাদের জীবনের এখানে অতিবাহিত প্রত্যেকটি মুহুর্ত মহান আল্লাহ তা’য়ালার সংরক্ষণ বা হেফাযতের পরিণতি মাত্র । তাঁর ইঙ্গিত যে কোনো মুহুর্তে প্রলঙ্করী ভূকম্পনের মাধ্যমএই যমীন তোমাদের জন্য আনন্দফু’র্তির স্থান না হয়ে কবরস্থানে পরিণত হতে পারে। তোমরা যেসব বিলাস সামগ্রী নির্মাণ করেছো,সুউচ্চ প্রাসাদ নিমার্ণ করেছো, তা মুহুর্তে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে মিশে যেতে পারে । () তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গিয়েছো সেই মাহন সত্তা সম্পর্কে যিনি আকাশে রয়েছেন ,এ ব্যাপারে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটির মধ্যে বিধ্বস্ত করে দিবেন এবং এই ভূ তল সহসা হ্যাচকা টান টল-টলায়মান হয়ে কাঁপতে শুরু করবে ?(সূরা মূলক১৬)
তোমরা কি এই ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গিয়েছো যে,তিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদের ওপর প্রস্তর বর্ষণকারী প্রবলবায়ূ প্রবাহিত করবেন ?(সূরা মূলক ১৭ ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন () তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানের ওপর যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন ।(আবু দাউদ, তিরমিজী )
এই হাদীসেও আল্লাহতা’য়ালার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, তিনি আসমানের ও আরশেআযীমে অবস্থান করছেন। আল্লাহ তা’য়ালা আরশে আযীমে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন -তোমাদের মধ্যে দিন ও রাতে পালাক্রমে আল্লাহর ফেরেশতারা যাওয়া আসা করে থাকেন। এই পালা পরিবর্তন হয় আসর ও ফজরের নামাযের সময়। এরপর যেসব ফেরেশতারা তোমাদের সাথে রাতে থাকেন,তারা আকাশে উঠে যান। তখন মহান আল্লা তা’য়ালা তোদেরকে প্রশ্ন করেন ,তোমরা আমার বন্দাকে কোন অবস্থায় ছেড়ে এসেছো? অথচ তিনি বান্দার অবস্থা সম্যক অবগত রয়েছেন । প্রশ্নের জবাবে ফেরেশতাগণ বলেন ,তাদেরকে নামায আদায়রত অবস্থায় রেখে এসেছি এবং তারা যখন নামায আদায় করছিলো, তখন তাদের কাছে গিয়ে পৌঁছে ছিলাম। (বোখারী ও মুসলিম )
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের সাথে আল্লাহ তা’য়ালা ফেরেশতা নিয়োজিত রেখেছেন । এই ফেরেশতারা ফজর ও আসরের সময় পালাপরিবর্তন করেন । এ জন্য এই সময় অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। রাতে যে ফেরেশতারা বান্দার সাথে থাকেন তাঁরা ফজরের নামাযের সময় চলেন যান এবং আরেক ফেরেশতা বান্দার কাছে আসেন। বান্দা যদি নামাযে থাকে তাহলে যে ফেরেশতা চলে গেলেন তিনি আল্লাহ তায়ালাকে জানান বান্দাকে নামায আদায়রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। আর যিনি এলেন তিনিও আল্লাহ তায়াকে জানান ,বান্দাকে নামায আদায়রত অবস্থায় পেয়েছি । এভাবে আসরের সময়ও ফেরেশতাদের পালা পরিবর্তন হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -() তোমরা কি আমাকে বিশ্বস্ত বলে স্বীকৃতি দাও না ? আমি তো ঐ সত্তার কাছে বিশ্বস্ত যিনি আকাশের ওপর রয়েছেন। সকাল ও সন্ধ্যায় আমার কাছে আকাশের সংবাদ এসে থাকে । (বোখারী ও মুসলিম)
বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১০
আল্লাহ কোথায় আছেন ?
গোটা আকাশ ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের । এই আকীদার প্রশ্নে মুসলমানকে বুঝতে হবে জানতে হবে আল্লাহ কোথায় আছেন ? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে একটি মারাত্মক বিভ্রান্তি । কোরআন ও সহীহ হাদীসে এ ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে , তবুও না জানার কারণে মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। যে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিপালন করছেন ,তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। অনেকে বলে থাকেন যে , মহান আল্লহ তা’য়ালা সর্বত্র বিরাজমান এবং হাজির নাজির। এই ধারণা ও বিশ্বাস সঠিক নয়, কোরআন ও হাদীসের বিপরীত । কোরআন -হাদীসের দৃষ্টিতে সঠিক কথা হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অবস্থান আরশের ওপর কিন্তু তিনি তাঁর অসীম জ্ঞান ,ক্ষমতা ,কুদরত ও দেখা শোনার মাধ্যমে সর্বত্র বিরাজমান। তিনি সত্তাগতভাবে সর্বত্র বিরাজমান নন।
আল্লাহ কোথায় আছেন ,এই প্রশ্নের জবাব কোনো মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব হবে না বিধায় স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালাই তাঁর বান্দাদের জানিয়ে দিয়েছেন ,তিনি কোথায় আছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতা’য়ালা নিজের অবস্থান সম্পর্কে সাতবার বলেছেন যে, তিনি আরশে আযীমে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রসঙ্গ উল্লেখ র্পূবক মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন- () এরপর স্বীয় আরশের ওপর আসীন হয়েছেন । (সূরা আল আ’রাফ -৫৪ ) এই একই বিষয় আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা ইউনুস ,সূরা রা’দ ,সূরা ত্বাহা , সূরা ফোরকান ,সূরা সিজদা ও সূরা হাদীদে উল্লেখ করেছেন। সমস্ত কিছু সৃষ্টি করার পর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন -আল্লাহ তা’য়ালার এ কথার বাস্তব রূপ অনুধাবন করা কোন মানুষের পক্ষে কক্ষণই সম্ভব নয়। তবে একটি বিষয় আল্লাহ তা’য়ালা এই কথার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মহাবিশ্ব এবং এর বাইরে যা কিছু রয়েছে ,এসব সৃষ্টি করে আল্লাহ তা’য়ালা ক্লান্ত হয়ে পড়েননি বা তিনি সৃষ্টি কাজ সমাপ্ত কের তাঁর সৃষ্টি থেকে তিনি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেননি। তিনি নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে অচেতন , বেখবর ,অসজাগ ,অসতর্ক বা দৃষ্টি ফিরিয়ে নেননি। অথবা সৃষ্টি করে তিনি তার সৃষ্টি জগৎ পরিচালনার দায়িত্ব ও কারো প্রতি অর্পন করেনি। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়ার লক্ষেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে,তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন । অর্থাৎ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গোটা মহাবিশ্বেও শুধুমাত্র সৃষ্টি কর্তাই নন, তিনি এই মহাবিশ্বেও প্রতিপালক ,নিয়ন্ত্রক ,ব্যবস্থাপক ,পরিচালক ,পর্যবেক্ষক ,সমস্ত সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণকারী ,আবেদন শ্রবণকারী, দোয়া কবুলকারী এবং সম্স্ত সৃষ্টির প্রয়োজনীয় আইন কানুন ও বিধান দানকারী।
আল্লাহ তা’য়ালা আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন এই বিষয়টি মানুষকে জানিয়ে দিয়ে তিনি এ কথাই স্পস্ট করে দিয়েছেন যে. তিনি এই মহাবিশ্বকে অস্তিত্বশীল করে অবসর গ্রহণ করেননিএবং মহাবিশ্ব থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে যাননি। বরং মহাবিশ্ব লোকের ক্ষুদ্র থেকে সর্ববৃহৎ অংশ পর্যন্ত সবস্তরের বিষয়াদিও ওপর কর্তৃত্ব তিনিই করছেন। শাসন কার্য পরিচালনা ও সার্বভৌমত্বও সমস্ত ক্ষমতা ও ইখতিয়ার একমাত্র তাঁরই মুষ্ঠিতে নিবদ্ধ। মহাবিশ্ব ও এর বাইরে যা কিছু রয়েছে ,সবকিছু তাঁরই অধীন ও মুখাপেক্ষী । প্রত্যেকটি অণু পরমাণু তাঁর বিধানের অধীনে ক্রিয়াশীল । সৃষ্টিসমূহের ভাগ্য চিরস্থায়ীভাবে তাঁর বিধানের অধীনে বন্দী।
আল্লাহতা’য়ালা কয়েকটি স্তরের মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে আরশে সমাসীন হয়েছেন এই কথার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর মানুষের কাছে এ কথা স্পস্ট করে দিয়েছেন যে ,তাঁর সৃষ্টি কাজে যেমন কারো কোনো অংশীদার ছিলনা ,অনুরূপভাবে সৃষ্টি কাজের পরিচালন ,প্রতিপালন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কারো সমান্যতম অংশীদারিত্ব নেই। তাঁর আরশ বা সিংহাসন যা সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে ,সেখানে থেকেই তিনি সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। মানুষকেও তিনি স্বাধীন ক্ষমতা দিয়ে ছেড়ে দেননি। মানুষের প্রত্যেকটি স্পন্দনের প্রতি তিনি সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যেসব বিধি বিধান প্রয়োজন,সে বিধানও তিনি আরশ বা সিংহাসন থেকে অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং মানুষের স্বেচ্ছাচারী হওয়া বা নিজের ভাগ্যেও মালিক নিজেকে মনে করার কোন অবকাশ নেই এই কথাটিই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্পস্ট করে দিয়েছেন এভাবে যে,তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন । অর্থাৎ মূল কেন্দ্রে থেকে তিনিই সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছেন্ । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসল্লাম বলেছেন -() নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা নিজ আরশের ওপর রয়েছেন । তাঁর আরশ হচ্ছে সমস্ত আকাশের ওপর । (আবু দাউদ )
মহান আল্লাহ তা’য়ালা আরশে আসীন হয়েছেন আর আরশ হলো অগণিত আকাশের ওপরে । আল্লাহ তা’য়ালা যে তাঁর মহান আরশে অধিষ্ঠিত এবং আরশ যে ওপরে অবস্থিত এ বিষয়ে কোরআন ও হাদীসে অসংখ্য প্রামণ রয়েছে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলা হয়েছে- () “ফেরেশতাগণ এবং রুহ আল্লাহ তা’য়ালার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। (সূরা মায়ারিজ ৪)
তাঁরই দিকে আরোহন করে উত্তম কথা এবং সৎকর্ম তাকে তুলে নেয়। (সূরা ফাতির ১০ )
বরং আল্লাহ তাঁকে (ঈসাকে )উঠিয়ে নিয়েছেন নিজের দিকে । (সূরা আন নিসা ১৫৮ )
বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন সম্পর্কে বলা হয়েছে,- এই কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি কোনো স্থান থেকে বা নীচু স্থানে থেকে কোন কিছু প্রেরণ করা হলে অবতীর্ণ করা করা বুঝায় না। ওপর থেকে কোনো কিছু প্রেরণ করা হলে তা অবতীর্ণ করা বুঝায় । আল্লাহ তা’য়ালা কোরআন সম্পর্কে বলেছেন -() এই একটি কিতাব যা আমি তোমার প্রতি অবর্তীণ করেছি যাতে তুমি মানুষকে অন্ধাকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে এসো। (সূরা ইবরাহীম ১) ()
নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতরণ করেছি ,যাতে আল্লাহ তোমাকে যা বুঝিয়েছেন তা দিয়ে তুমি মানুষের মধ্যে শাসন ও ফয়সালা করতে পারো। (সূরা নিসা ১০৫ )
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পর বায়তুল মাকদাসকে কিবলা হিসেবে নামায আদায় করতেন। তিনি মনে মনে কামনা করতেন ,মক্কার কা’বাঘরকে যদি কিবলা বানানো হতো । এ জন্য তিনি বার বার আকাশের দিকে দৃষ্টি দিতেন। তাঁর দৃষ্টি দেয়ার অর্থ এটা ছিলো যে,ওপর থেকেআল্লাহতা’য়ালা যদি কোনো আদেশ দিতেন । মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর রাসূলের মনের অবস্থা দেখলেন এবং রাসূলকে জানিয়ে দিলেন- () নিশ্চয়ই আমি তোমাকে বার বার আকাশের দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে দেখি । (সূরা বাকারা ১৪৪)
আল্লাহর রাসূলের থেকে মহান আল্লাহর পরিচয় আর কে বেশী জানতে পারে ? তিনিই সব থেকে বেশী আল্লাহর পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলেন । তিনি জানেনে যে ,মহান আল্লাহ তা’য়ালা ওপরে আরশে আযীমে অবস্থান করছেন। এ জন্যই তিনি বার বার ওপরের দিকে তাকাতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে আরাফার দিনে উপস্থিত সমস্ত সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে বললেন আল্লাহ পক্ষ থেকে আমার কাছে যা কিছু অবতীর্ন হয়েছে ,আমি কি তা তোমাদের কাছে পৌঁছিয়েছি ? উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ জবাব দিলেন অবশ্যই ।তখন তিনি উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামকে ইশারা করে আকাশের দিকে শাহাদাত আঙ্গুলি উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ ! তুমি সাক্ষী থেকো। (মুসলিম )
এ কথা যদি বলা হয় যে,আল্লাহ তা’য়ালা সব জায়গায় আছেন বা তিনি সর্বত্র বিরাজমান। তাহলে তিনি পাহাড় -পর্বত ,নদী- নালা ,খাল- বিল, হাওড়- সাগর মহাসগর, আকাশ- বাতাস, আগুন -পানি ,ময়লা -আবর্জনার, ভাগাড়, মল -মূত্রের ভান্ড তথা বাঞ্ছিত-অবাঞ্ছিত সকল স্তরেই তিনি রয়েছেন । সেসব জায়গা অবাঞ্ছনীয়, অবান্তর সেসব জায়াগতেও আল্লাহকে থাকতে হয়। পৃথিবীর সব থেকে নিকৃষ্টি, দুগন্ধময়,অপবিত্র তথা যেখানে বা যে স্থান কোনো মানুষের পক্ষে বাস করা সম্ভব নয় সেখানেও আল্লাহ তা’য়ালা রয়েছে।
হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আসলামী রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুর দাসীকে প্রশ্ন করলেন -() বলো আল্লাহ তা’য়ালা কোথায় ? দাসী জবাব দিলো আল্লাহতা’য়ালা আকাশের ওপর ।তিনি পুনরায় সেই দাসীকে প্রশ্ন করলেন বলো আমি কে ?দাবী জাবাব দিলো আপনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হযত মুয়াবিয়া ইবনে হাকামকে আদেশ দিলেন এই দাসীকে মুক্ত করে দাও। কারণ সে ঈমানদার (মুসলিম )
আল্লাহ কোথায় আছেন ,এই প্রশ্নের জবাব কোনো মানুষের পক্ষে দেয়া সম্ভব হবে না বিধায় স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালাই তাঁর বান্দাদের জানিয়ে দিয়েছেন ,তিনি কোথায় আছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতা’য়ালা নিজের অবস্থান সম্পর্কে সাতবার বলেছেন যে, তিনি আরশে আযীমে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রসঙ্গ উল্লেখ র্পূবক মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন- () এরপর স্বীয় আরশের ওপর আসীন হয়েছেন । (সূরা আল আ’রাফ -৫৪ ) এই একই বিষয় আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা ইউনুস ,সূরা রা’দ ,সূরা ত্বাহা , সূরা ফোরকান ,সূরা সিজদা ও সূরা হাদীদে উল্লেখ করেছেন। সমস্ত কিছু সৃষ্টি করার পর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন -আল্লাহ তা’য়ালার এ কথার বাস্তব রূপ অনুধাবন করা কোন মানুষের পক্ষে কক্ষণই সম্ভব নয়। তবে একটি বিষয় আল্লাহ তা’য়ালা এই কথার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মহাবিশ্ব এবং এর বাইরে যা কিছু রয়েছে ,এসব সৃষ্টি করে আল্লাহ তা’য়ালা ক্লান্ত হয়ে পড়েননি বা তিনি সৃষ্টি কাজ সমাপ্ত কের তাঁর সৃষ্টি থেকে তিনি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেননি। তিনি নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে অচেতন , বেখবর ,অসজাগ ,অসতর্ক বা দৃষ্টি ফিরিয়ে নেননি। অথবা সৃষ্টি করে তিনি তার সৃষ্টি জগৎ পরিচালনার দায়িত্ব ও কারো প্রতি অর্পন করেনি। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়ার লক্ষেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে,তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন । অর্থাৎ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গোটা মহাবিশ্বেও শুধুমাত্র সৃষ্টি কর্তাই নন, তিনি এই মহাবিশ্বেও প্রতিপালক ,নিয়ন্ত্রক ,ব্যবস্থাপক ,পরিচালক ,পর্যবেক্ষক ,সমস্ত সৃষ্টির প্রয়োজন পূরণকারী ,আবেদন শ্রবণকারী, দোয়া কবুলকারী এবং সম্স্ত সৃষ্টির প্রয়োজনীয় আইন কানুন ও বিধান দানকারী।
আল্লাহ তা’য়ালা আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন এই বিষয়টি মানুষকে জানিয়ে দিয়ে তিনি এ কথাই স্পস্ট করে দিয়েছেন যে. তিনি এই মহাবিশ্বকে অস্তিত্বশীল করে অবসর গ্রহণ করেননিএবং মহাবিশ্ব থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে যাননি। বরং মহাবিশ্ব লোকের ক্ষুদ্র থেকে সর্ববৃহৎ অংশ পর্যন্ত সবস্তরের বিষয়াদিও ওপর কর্তৃত্ব তিনিই করছেন। শাসন কার্য পরিচালনা ও সার্বভৌমত্বও সমস্ত ক্ষমতা ও ইখতিয়ার একমাত্র তাঁরই মুষ্ঠিতে নিবদ্ধ। মহাবিশ্ব ও এর বাইরে যা কিছু রয়েছে ,সবকিছু তাঁরই অধীন ও মুখাপেক্ষী । প্রত্যেকটি অণু পরমাণু তাঁর বিধানের অধীনে ক্রিয়াশীল । সৃষ্টিসমূহের ভাগ্য চিরস্থায়ীভাবে তাঁর বিধানের অধীনে বন্দী।
আল্লাহতা’য়ালা কয়েকটি স্তরের মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে আরশে সমাসীন হয়েছেন এই কথার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীর মানুষের কাছে এ কথা স্পস্ট করে দিয়েছেন যে ,তাঁর সৃষ্টি কাজে যেমন কারো কোনো অংশীদার ছিলনা ,অনুরূপভাবে সৃষ্টি কাজের পরিচালন ,প্রতিপালন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কারো সমান্যতম অংশীদারিত্ব নেই। তাঁর আরশ বা সিংহাসন যা সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে ,সেখানে থেকেই তিনি সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। মানুষকেও তিনি স্বাধীন ক্ষমতা দিয়ে ছেড়ে দেননি। মানুষের প্রত্যেকটি স্পন্দনের প্রতি তিনি সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যেসব বিধি বিধান প্রয়োজন,সে বিধানও তিনি আরশ বা সিংহাসন থেকে অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং মানুষের স্বেচ্ছাচারী হওয়া বা নিজের ভাগ্যেও মালিক নিজেকে মনে করার কোন অবকাশ নেই এই কথাটিই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্পস্ট করে দিয়েছেন এভাবে যে,তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন । অর্থাৎ মূল কেন্দ্রে থেকে তিনিই সমস্ত কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছেন্ । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসল্লাম বলেছেন -() নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা নিজ আরশের ওপর রয়েছেন । তাঁর আরশ হচ্ছে সমস্ত আকাশের ওপর । (আবু দাউদ )
মহান আল্লাহ তা’য়ালা আরশে আসীন হয়েছেন আর আরশ হলো অগণিত আকাশের ওপরে । আল্লাহ তা’য়ালা যে তাঁর মহান আরশে অধিষ্ঠিত এবং আরশ যে ওপরে অবস্থিত এ বিষয়ে কোরআন ও হাদীসে অসংখ্য প্রামণ রয়েছে। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলা হয়েছে- () “ফেরেশতাগণ এবং রুহ আল্লাহ তা’য়ালার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। (সূরা মায়ারিজ ৪)
তাঁরই দিকে আরোহন করে উত্তম কথা এবং সৎকর্ম তাকে তুলে নেয়। (সূরা ফাতির ১০ )
বরং আল্লাহ তাঁকে (ঈসাকে )উঠিয়ে নিয়েছেন নিজের দিকে । (সূরা আন নিসা ১৫৮ )
বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন সম্পর্কে বলা হয়েছে,- এই কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি কোনো স্থান থেকে বা নীচু স্থানে থেকে কোন কিছু প্রেরণ করা হলে অবতীর্ণ করা করা বুঝায় না। ওপর থেকে কোনো কিছু প্রেরণ করা হলে তা অবতীর্ণ করা বুঝায় । আল্লাহ তা’য়ালা কোরআন সম্পর্কে বলেছেন -() এই একটি কিতাব যা আমি তোমার প্রতি অবর্তীণ করেছি যাতে তুমি মানুষকে অন্ধাকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে এসো। (সূরা ইবরাহীম ১) ()
নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতরণ করেছি ,যাতে আল্লাহ তোমাকে যা বুঝিয়েছেন তা দিয়ে তুমি মানুষের মধ্যে শাসন ও ফয়সালা করতে পারো। (সূরা নিসা ১০৫ )
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পর বায়তুল মাকদাসকে কিবলা হিসেবে নামায আদায় করতেন। তিনি মনে মনে কামনা করতেন ,মক্কার কা’বাঘরকে যদি কিবলা বানানো হতো । এ জন্য তিনি বার বার আকাশের দিকে দৃষ্টি দিতেন। তাঁর দৃষ্টি দেয়ার অর্থ এটা ছিলো যে,ওপর থেকেআল্লাহতা’য়ালা যদি কোনো আদেশ দিতেন । মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর রাসূলের মনের অবস্থা দেখলেন এবং রাসূলকে জানিয়ে দিলেন- () নিশ্চয়ই আমি তোমাকে বার বার আকাশের দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে দেখি । (সূরা বাকারা ১৪৪)
আল্লাহর রাসূলের থেকে মহান আল্লাহর পরিচয় আর কে বেশী জানতে পারে ? তিনিই সব থেকে বেশী আল্লাহর পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলেন । তিনি জানেনে যে ,মহান আল্লাহ তা’য়ালা ওপরে আরশে আযীমে অবস্থান করছেন। এ জন্যই তিনি বার বার ওপরের দিকে তাকাতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জে আরাফার দিনে উপস্থিত সমস্ত সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে বললেন আল্লাহ পক্ষ থেকে আমার কাছে যা কিছু অবতীর্ন হয়েছে ,আমি কি তা তোমাদের কাছে পৌঁছিয়েছি ? উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ জবাব দিলেন অবশ্যই ।তখন তিনি উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামকে ইশারা করে আকাশের দিকে শাহাদাত আঙ্গুলি উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ ! তুমি সাক্ষী থেকো। (মুসলিম )
এ কথা যদি বলা হয় যে,আল্লাহ তা’য়ালা সব জায়গায় আছেন বা তিনি সর্বত্র বিরাজমান। তাহলে তিনি পাহাড় -পর্বত ,নদী- নালা ,খাল- বিল, হাওড়- সাগর মহাসগর, আকাশ- বাতাস, আগুন -পানি ,ময়লা -আবর্জনার, ভাগাড়, মল -মূত্রের ভান্ড তথা বাঞ্ছিত-অবাঞ্ছিত সকল স্তরেই তিনি রয়েছেন । সেসব জায়গা অবাঞ্ছনীয়, অবান্তর সেসব জায়াগতেও আল্লাহকে থাকতে হয়। পৃথিবীর সব থেকে নিকৃষ্টি, দুগন্ধময়,অপবিত্র তথা যেখানে বা যে স্থান কোনো মানুষের পক্ষে বাস করা সম্ভব নয় সেখানেও আল্লাহ তা’য়ালা রয়েছে।
হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আসলামী রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুর দাসীকে প্রশ্ন করলেন -() বলো আল্লাহ তা’য়ালা কোথায় ? দাসী জবাব দিলো আল্লাহতা’য়ালা আকাশের ওপর ।তিনি পুনরায় সেই দাসীকে প্রশ্ন করলেন বলো আমি কে ?দাবী জাবাব দিলো আপনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন হযত মুয়াবিয়া ইবনে হাকামকে আদেশ দিলেন এই দাসীকে মুক্ত করে দাও। কারণ সে ঈমানদার (মুসলিম )
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)